মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনার আজ ১১২ বছর পূর্ণ হলো। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই শুরু হওয়া এই বিশ্বযুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল চার বছর ধরে। সারায়েভোতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হলেও, এর পেছনে কাজ করেছিল দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সাম্রাজ্যবাদী লালসা এবং জটিল সামরিক জোটব্যবস্থা।
১৯১৪ সালের জুনে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো সফরে যান। সেখানে বসনীয় সার্ব জাতীয়তাবাদী তরুণ গ্যাভরিলো প্রিন্সিপের গুলিতে ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তৎকালীন ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তার জন্য গঠিত জোটগুলোর কারণে এই আঞ্চলিক বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়। একদিকে ট্রিপল অ্যালায়েন্স বা কেন্দ্রীয় শক্তি এবং অন্যদিকে ট্রিপল আন্তঁত বা মিত্রশক্তি—এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে পুরো ইউরোপ।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ একে একে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে। ১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রপক্ষে যোগ দিলে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। দীর্ঘ চার বছরের ভয়াবহ লড়াই, আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির পর ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই বিশ্বযুদ্ধের পরিণতিতে বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে যায়। উসমানীয় সাম্রাজ্য, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য এবং রুশ সাম্রাজ্যের মতো প্রভাবশালী রাজতন্ত্রগুলোর পতন ঘটে। ইতিহাসের পাতায় এই যুদ্ধ নতুন প্রযুক্তি, সামরিক কৌশল এবং বিশ্ব ব্যবস্থার এক গভীর পরিবর্তনের বার্তা রেখে গেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
