Sunday , July 26 2026
Breaking News
লালমনিরহাটে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটির চার সদস্য বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার

লালমনিরহাটে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটির চার সদস্য বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার

লালমনিরহাটে মাদকবিরোধী একটি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত চার সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’ তাদের ওয়ার্ড পর্যায়ের ওই চার সদস্যকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হলে, তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত সংস্থাগুলির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যেখানে সংগঠনের অভ্যন্তরেই এমন অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রেপ্তারকৃত চারজন হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিণচড়া গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান, আনারুল ইসলাম, মো. আবদুর রাজ্জাক ও জাহেদুল ইসলাম। তাঁরা প্রত্যেকেই ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’র সক্রিয় ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার দাবি করে আসছিল। এমন একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ ওঠায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে, যখন খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উল্লেখিত কমিটির ইউনিয়ন শাখার প্রধান সমন্বয়ক খায়রুজ্জামান মণ্ডল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিজ্ঞপ্তির ছবি প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চারজনকে সংগঠন থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আরও জানান যে, মাদক ও যেকোনো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাদের সংগঠন সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এবং কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার সংগঠন বহন করবে না।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই অভিযুক্তদের দ্রুততম সময়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ গত শনিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ওই চারজনকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ গত শনিবার রাতে মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটককৃত চারজনকেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট জেলাটি সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এখানে মাদক পাচার ও সেবনের ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়। এলাকার যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সরকারি সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে এর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে একটি মাদকবিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িতদের এমন কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য হতাশাজনক এবং এই ধরনের ঘটনা মাদকবিরোধী লড়াইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মাদক নির্মূলের লড়াই কেবল বাইরে থেকে নয়, নিজেদের ভিতরের পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। সমাজের গভীরে মাদকের শিকড় কতটা বিস্তৃত, তা এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তবে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কমিটির দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা অন্যান্য সংগঠন ও ব্যক্তিকে সতর্ক করবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত ও সুদৃঢ় অঙ্গীকারের গুরুত্ব এই ঘটনার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠলো।

এছাড়াও

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাসদ ছেড়ে আসা সাবেক মেয়রের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত: মাথায় ১১ সেলাই, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাসদ ছেড়ে আসা সাবেক মেয়রের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত: মাথায় ১১ সেলাই, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাসদের সদ্য পদত্যাগী নেতা আনোয়ারুল কবিরের ওপর দুর্বৃত্তরা এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *