কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ৬২ বছরের বর্ণাঢ্য পেশাদার সংগীতজীবনে এই প্রথম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় এই ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি তার দীর্ঘ সংগীতপথের ১০টি কালজয়ী গান পরিবেশন করবেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারিবারিক কাজ শেষে দেশে ফেরার পরই তিনি এই বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শুধু গান পরিবেশনই নয়, এই অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হবে, যা তার অসামান্য সংগীতপ্রতিভা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রুনা লায়লার এই একক সংগীতানুষ্ঠানটি শুধু তার ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত নয়, বরং বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে মঞ্চ মাতিয়েছেন রুনা লায়লা, তবে জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই তার প্রথম একক পরিবেশনা। এর আগে তিনি হয়তো দুই বা তিনবার এই মঞ্চে গেয়েছেন, তবে সেগুলো ছিল দলীয় বা বিশেষ আয়োজনের অংশ। এই আয়োজন ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, কারণ এটি একজন জীবন্ত কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে রুনা লায়লা নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান এবং স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এমন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। শ্রোতাদের প্রিয় কিছু গান পরিবেশনের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে দু-একবারের বেশি গাওয়া হয়নি, তবে একক গানের অনুষ্ঠান এবারই প্রথম। আশা করি, শ্রোতাদের সঙ্গে একটি সুন্দর ও স্মরণীয় সন্ধ্যা কাটবে।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি এই আয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা সংগীতকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ অনুভব করছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুনা লায়লার এই বিশেষ আয়োজনে তার ৬২ বছরের গৌরবময় সংগীতজীবন থেকে নির্বাচিত ১০টি কালজয়ী এবং শ্রোতাপ্রিয় গান পরিবেশিত হবে। এই গানগুলো তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ের স্মারক, যা বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে তার গভীর প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে। শুধু গান পরিবেশনই নয়, এই অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর মানবিক উদ্দেশ্য। টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। শিল্পকলা একাডেমি নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর একটি মহৎ উদ্যোগ। বাংলাদেশের মতো বন্যাপ্রবণ দেশে এমন মানবিক উদ্যোগ সংস্কৃতি অঙ্গনের দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে একাডেমি দেশের আরও দুই কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এবং সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে এ ধরনের একক সম্মাননা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এই ধারাবাহিকতায় রুনা লায়লার এই আয়োজন দেশের গুণী শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রচেষ্টার অংশ।
শিল্পকলা একাডেমির এই বিশেষ আয়োজন শেষ করেই রুনা লায়লা তার আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরবেন। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষের দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সেখানে তিনি একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করবেন। প্রবাসীদের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও সংগীত পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাও তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দেশের মাটিতে তার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার সংগীতযাত্রা অব্যাহত থাকছে, যা তাকে truly একজন বৈশ্বিক বাঙালি শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
