Friday , July 24 2026
Breaking News
শিক্ষার কোনো বয়স নেই: ৬০ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশির

শিক্ষার কোনো বয়স নেই: ৬০ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশির

শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই—এই চিরন্তন সত্যটি আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি সৈয়দ জহুরুল হক। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, দীর্ঘ কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং কমিউনিটির বহুবিধ ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে ৬০ বছর বয়সে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর এই অদম্য স্পৃহা ও শিক্ষা অনুরাগের গল্পটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং প্রবাসে বসবাসকারী লাখো বাংলাদেশির জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

১৯৬৫ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহাসিক সৈয়দপুর গ্রামের এক বিদগ্ধ ও আধ্যাত্মিক পরিবারে জন্ম নেওয়া জহুরুল হকের পারিবারিক আবহ ছিল পুরোপুরি শিক্ষাবান্ধব। তিনি প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক ও মরমি কবি পীর সৈয়দ শাহনূর (রহ.)-এর পঞ্চম বংশধর। তাঁর বাবা সৈয়দ নূরুল হক ছিলেন এলাকার অত্যন্ত সম্মানিত শিক্ষক। ফলে বাল্যকাল থেকেই শিক্ষার প্রতি এক ধরনের অনুরাগ ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিজ এলাকার স্কুল থেকেই শেষ করার পর তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও জীবিকার তাগিদে এবং প্রবাস জীবনের আহ্বানে সেই অধ্যায় তখন অসমাপ্ত রেখেই ১৯৯৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

লন্ডনের মাটিতে জহুরুল হকের প্রবাস জীবন শুরু হয়েছিল বেশ কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। পেটের টানে প্রথমে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কঠোর পরিশ্রম করলেও নিজের মেধা ও শেখার আগ্রহকে কখনো দমিয়ে রাখেননি তিনি। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিজের ভাষার দক্ষতাকে পেশায় রূপান্তর করতে চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টের অধীনে ‘ডিপ্লোমা ইন পাবলিক সার্ভিস ইন্টারপ্রিটিং’ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সার্টিফাইড ট্রান্সলেটর ও ইন্টারপ্রিটর বা দোভাষী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত জীবনের চরম ব্যস্ততা এবং চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক হিসেবে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাঝেও মনের গভীরে সুপ্ত ছিল পড়াশোনা শেষ করার তীব্র বাসনা। সেই অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতেই তিনি ষাট বছর বয়সে পুনরায় যুক্তরাজ্যের কেন্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। দীর্ঘ চার বছর ধরে কর্ম ও পড়াশোনার কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করে তিনি সম্প্রতি ‘বিজনেস অ্যান্ড ট্যুরিজম’ বিষয়ে সফলভাবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর এই সাফল্যে শুধু পরিবারই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের মূলধারার ব্রিটিশ সমাজেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

নিজের এই বিশাল অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে সৈয়দ জহুরুল হক জানান, শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং জ্ঞানার্জনের কোনো বয়স বা শেষ সীমানা থাকে না। জীবনের বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত সময়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করা না গেলেও সেই লক্ষ্য থেকে তিনি কখনো সরে আসেননি। সুযোগ পেতেই তা লুফে নিয়েছেন। প্রবাসের মাটিতে বসে তাঁর এই অসামান্য অধ্যবসায় ও বয়সের বাধাকে জয় করার মানসিকতা প্রমাণ করে যে, মনের জোর এবং প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো বয়সেই সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

এছাড়াও

সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন জীবনের বিভ্রম: অ্যালগরিদম নয়, দায়ী মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা

সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন জীবনের বিভ্রম: অ্যালগরিদম নয়, দায়ী মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা

অনেক সময় ছুটির দিনে নিজের ঘরে বসে যখন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো স্ক্রল করি, তখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *