পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নবীন এক শিক্ষার্থী সিনিয়রদের র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমানকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি মেসে ডেকে নিয়ে যান একই বিভাগের একদল জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসদাচরণ এবং মানসিক হয়রানি করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই মানসিক উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে মুশফিকুর রহমান প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক জটিলতা এড়াতে তাঁকে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার তীব্রতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. ফজলুল হককে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে পাবিপ্রবির ছাত্র উপদেষ্টা মো. রাশেদুল হক জানান, র্যাগিংয়ের মতো সংবেদনশীল ও ক্ষতিকর বিষয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকেও বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র্যাগিং প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রায়শই বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়, বরং দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
