মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বা সংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসে জীবনযাত্রার তাগিদে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের গ্রামের বাড়ি ও স্বজনদের মাঝে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ওই শ্রমিক নির্মাণাধীন ভবনে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বা নিরাপত্তা সরঞ্জামের কোনো ত্রুটির কারণে তিনি ওপর থেকে সরাসরি নিচে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি সেবাময়ী সংস্থাকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির শ্রম অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থারা। নির্মাণাধীন সাইটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ছিল কি না, কিংবা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে এই দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। অনেকেই বলছেন, পর্যাপ্ত সেফটি গিয়ার বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কারণে প্রায়শই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিহত শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ ও পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক ও প্রবাসীর কল্যাণমূলক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুদিন সময় লাগলেও নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করতে গিয়ে এভাবে প্রবাসীর ঝরে যাওয়া জীবন আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
