Thursday , July 23 2026
Breaking News
এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সময় বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ

এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সময় বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) বা লেস ডেভেলপড কান্ট্রিস ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ ও তা দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের মূল্যায়নের পর বিষয়টি এখন সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে করোনা মহামারী, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ চেনে বিঘ্ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো নানা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা হারানো এবং অন্যান্য ট্রানজিশনাল বা রূপান্তরকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের নীতিনির্ধারকরা কিছুটা বাড়তি সময় চেয়ে আসছেন। এই অতিরিক্ত সময় দেশের রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং প্রতিযোগিতক্ষম বাজার অর্থনীতিতে নিজেদের শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং ভোটাভুটি বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এই প্রস্তাব পাস হয়, তবে বাংলাদেশসহ উত্তরণ প্রক্রিয়ায় থাকা অন্যান্য নির্দিষ্ট দেশগুলো তাদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাড়তি সময় পাবে। এর ফলে ২০২৬ সালে নির্ধারিত উত্তরণ কাঠামোর পরেও নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক সুবিধা বহাল থাকার পথ সুগম হতে পারে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এই পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার এবং দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময় কেবল দেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও ইতিবাচক হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়াও

বাংলাদেশের সংকটময় মুহূর্তে চীনের অটল সমর্থন: রাষ্ট্রদূতের দৃঢ় বার্তা

বাংলাদেশের সংকটময় মুহূর্তে চীনের অটল সমর্থন: রাষ্ট্রদূতের দৃঢ় বার্তা

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে বাংলাদেশের সংকটকালীন মুহূর্তে চীনের অবিচল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *