বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের খেতাব ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। আন্তর্জাতিকভাবে পাসপোর্ট সূচকের সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক গতিশীলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশটির শীর্ষ অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এই বৈশ্বিক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সূচক অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা বিশ্বের সিংহভাগ দেশে ভিসামুক্ত অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা উপভোগ করে থাকেন। দেশটির সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব এবং বিশ্বজুড়ে আস্থার পরিবেশ তাদের পাসপোর্টের এই মান ধরে রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তালিকার শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র এবং এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, সূচকের নিচের সারির দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া। যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে থাকা এই দেশগুলোর নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কড়াকড়ি ও ভিসাপ্রাপ্তির জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনশক্তির দক্ষতা এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অভাব পাসপোর্টের শক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অবস্থার উত্তরণে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাসপোর্টের এই বৈশ্বিক র্যাংকিং মূলত কোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নাগরিকদের বিশ্বজুড়ে চলাচলের স্বাধীনতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারক ও কুটনীতিকরা পাসপোর্টের মান উন্নয়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসলেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে আরও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যকার এই ব্যবধান কমাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
