Wednesday , July 22 2026
Breaking News
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বা মধ্যবর্তী সময়সীমা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে একটি মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক বাজারের নতুন বাণিজ্যিক শর্তাবলীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রদান করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৮ এবং ২০২১ সালে জাতিসংঘের বিকাশমান মানদণ্ড অনুযায়ী মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—তিনটি শর্তই সফলভাবে পূরণ করে এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ ঘটার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং স্থানীয় সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপের কারণে উত্তরণ পরবর্তী সম্ভাব্য ধাক্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তুতিকাল বাড়িয়ে অন্তত কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছিল, যাতে বাণিজ্য সুবিধাসমূহ রাতারাতি বন্ধ হয়ে না যায়।

এলডিসি মর্যাদা হারালে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। ইকোসকের এই নতুন সুপারিশের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা আরও কিছুটা সময় ভোগ করতে পারবেন, যা রপ্তানি আয় ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন বিভিন্ন কারিগরি ও নমনীয় সুবিধাও বজায় থাকবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাপ্ত অতিরিক্ত সময়কে বাংলাদেশকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় পণ্যের বহুমুখীকরণ, রাজস্ব ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার, অবকাঠামোগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

ইকোসকের এই সুপারিশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পেশ করা হবে। সাধারণ পরিষদ প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে সংশোধিত নতুন উত্তরণ সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। বিজ্ঞমহল মনে করছে, জাতিসংঘের এই নমনীয় অবস্থান বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং একটি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে সহায়ক হবে।

এছাড়াও

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রভাব: আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ কি হুমকির মুখে?

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রভাব: আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ কি হুমকির মুখে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *