জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে দেশের নিরাপত্তা অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে ‘ডেকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি’র নীতিমালার আলোকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশ।
সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি অন্যতম প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়কে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। কেবল মানবসম্পদের অপচয়েই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যা সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। এ কারণে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপদ সড়কের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে গত কয়েক বছরে দেশে বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করে সেগুলোর উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে চার ও ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মিডিয়ান বা ডিভাইডার স্থাপন এবং পথচারীদের পারাপারের জন্য ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে এবং চালকদের পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাণহানি ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইনের প্রতি অনাগ্রহ এবং মহাসড়কে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের মিশ্র উপস্থিতি দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি যেমন—স্পিড ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ফাইন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া দুর্ঘটনাপরবর্তী জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং উদ্ধার তৎপরতার গতি বাড়ানো প্রাণহানি কমানোর অন্যতম চাবিকাঠি। মহাসড়ক সংলগ্ন ট্রমা সেন্টারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। সড়ক নিরাপত্তাকে একটি যৌথ সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করে চালক, পথচারী ও যাত্রী—সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ২০৩০ সালের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
