দেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন এবং বহরের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে দশটি অত্যাধুনিক বিমান সংগ্রহ করা হবে। বিমান পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের সূত্রে জানা গেছে, দেশের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদান এবং ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে মূলত বোয়িং কোম্পানির উড়োজাহাজের আধিক্য থাকলেও, সেবার বৈচিত্র্য আনয়ন এবং বিভিন্ন গন্তব্যে উড্ডয়নের ক্ষেত্রে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এয়ারবাসের সাথে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন লাভজনক রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে, এশিয়া ও ইউরোপের নতুন কিছু গন্তব্যে বিমান চলাচলের সম্ভাব্যতা নিয়েও কাজ চলছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমান বহরের সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার ফলে শুধু যাত্রী পরিবহনই বৃদ্ধি পাবে না, বরং দেশের কার্গো বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও আরও বেশি গতিশীল হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিমান সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এয়ারবাসের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজগুলো দেশের আকাশে ডানা মেলবে। এর ফলে যাত্রীদের সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
