Tuesday , July 14 2026
Breaking News
নেত্রকোনায় অনুপ্রবেশকালে আটক রোহিঙ্গা মা-মেয়েকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে

নেত্রকোনায় অনুপ্রবেশকালে আটক রোহিঙ্গা মা-মেয়েকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে

নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক হওয়া এক রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর শিশুকন্যাকে কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশি পাহারায় তাঁদের আশ্রয়শিবিরে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনার চলমান চ্যালেঞ্জকে আবারও সামনে এনেছে।

পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের ভাংতি বাজার এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহজনকভাবে ২৫ বছর বয়সী ওই রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর এক বছর বয়সী মেয়েকে আটক করেন। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বিজিবির বিজয়পুর ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা যায়। এরপর তাঁদের দুর্গাপুর থানায় সোপর্দ করা হয় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য।

দুর্গাপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত নারী কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তাঁর স্বামী কয়েক মাস আগে মারা গেছেন। সম্ভবত জীবনধারণের তাগিদ এবং উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ধরনের ঘটনা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিদ্যমান হতাশা ও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়, যা অনেক শরণার্থীকে বিপজ্জনক পথে হাঁটতে বাধ্য করে।

সোমবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে দুইজন নারী কনস্টেবলের পাহারায় মা ও মেয়েকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, আটককৃতদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে। এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাপ বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও, তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক রোহিঙ্গা উন্নত জীবনের আশায় বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য অবৈধভাবে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত, মালয়েশিয়া বা অন্যান্য দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। এই ধরনের অনুপ্রবেশ কেবল তাদের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে না, বরং দেশের সীমান্ত সুরক্ষার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলতেই থাকবে। আন্তর্জাতিক মহলের উচিত মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা। একই সাথে, আশ্রয়শিবিরগুলোতে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শরণার্থীদের মধ্যে হতাশা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি, যাতে তারা বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য না হয়।

এছাড়াও

মোহাম্মদপুরে ঘুমের ওষুধ সেবনে যুবকের মৃত্যু: হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর চেষ্টা, পুলিশের হস্তক্ষেপ

মোহাম্মদপুরে ঘুমের ওষুধ সেবনে যুবকের মৃত্যু: হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর চেষ্টা, পুলিশের হস্তক্ষেপ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘুমের ওষুধ সেবনের পর আদ দ্বীন (২৩) নামের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *