ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া ‘অনিবার্য’ বলে ঘোষণা করেছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের প্রথম দিনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন, তার পিতার ওপর চালানো এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্ব, ইসলামি আদর্শ এবং বিপ্লবের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ যে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার চড়া মূল্য তাদের দিতেই হবে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার এবং তা সম্পূর্ণ অনিবার্য। ইরানের নীতি-নির্ধারণী মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনির এই বক্তব্যকে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া মানে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক মহাবিপর্যয়ের সূচনা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ছায়াযুদ্ধ (Shadow War) এখন প্রকাশ্য ও সরাসরি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও যুদ্ধের ইতিহাসে এক চরম নজিরবিহীন ঘটনা। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী, যা দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তা অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া এবং চীনের মতো পরাশক্তিগুলো এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্তের হিসাব না নেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, এই সংকটের মুহূর্তে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়েও নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবর্তমানে মোজতবা খামেনি যেভাবে দলের হাল ধরেছেন এবং কঠোর বার্তা দিচ্ছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন তিনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন। রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এবং দেশের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যেই মোজতবা খামেনির এই প্রতিশোধের ডাককে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও সংঘাতময় করে তুলেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
