২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাকে সামনে রেখে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষাবিদরা। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কোনো বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) না থাকায় পুরো পরীক্ষাটিই রচনামূলক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। মোট ১২টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে থাকে ৩ ঘণ্টা বা ১৮০ মিনিটের সময়সীমা। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল সময় পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, যা শিক্ষার্থীদের ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হবে।
পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর প্রথম ৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পুরো প্রশ্নপত্রটি খুঁটিয়ে পড়ে নিজের জানা ও সহজ উত্তরগুলো নির্বাচন করে রাখা প্রয়োজন। ব্যাকরণ অংশে ৩০ নম্বরের বিপরীতে ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের বিকল্প থাকার সুবিধা রয়েছে। উচ্চারণের নিয়ম, বানানের শুদ্ধতা, শব্দশ্রেণি নির্ণয়, সমাস, বাক্য রূপান্তর এবং বাক্যের অপপ্রয়োগ সংশোধনের মতো বিষয়গুলোতে সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যাকরণ অংশে নির্ভুল উত্তর প্রদানের পাশাপাশি উপস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
নির্মিতি অংশে মোট ৭০ নম্বর নির্ধারিত থাকে, যেখানে প্রবন্ধ লিখনসহ ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অনুবাদের চেয়ে পারিভাষিক শব্দ, দিনলিপি বা অভিজ্ঞতার চেয়ে প্রতিবেদন লিখন এবং সাধারণ চিঠির চেয়ে ই-মেইল বা বৈদ্যুতিন চিঠি নির্বাচন করা বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে প্রবন্ধ লিখনের জন্য ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় পৃষ্ঠা লেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংলাপ লিখন বা সারমর্মের মতো বিষয়গুলোতেও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলা বাঞ্ছনীয়।
পরীক্ষার শেষ ৫ মিনিট অবশ্যই খাতা রিভিশনের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত, যাতে ছোটখাটো ভুল সংশোধন করা সম্ভব হয়। উত্তরপত্র শেষ করার পর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সমাপ্ত’ বা ‘END’ লিখে খাতা জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করলে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করা সহজতর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের এই যুগে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার পাশাপাশি সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া অপরিহার্য।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
