পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্থানীয় দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামের এক কৃষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালী শহর থেকে নাসির উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাউফল উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকায় একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হাত-পা বেঁধে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং স্থানীয় দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের অনুসারী। তিনি একটি মামলার হাজিরা শেষে আদালত থেকে ফেরার পথে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর পথ রোধ করে। এরপর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কোনো উত্তর না পেয়ে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিং ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার হয়েই নাসির উদ্দিনকে টার্গেট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং তাঁর সাথে কোনো অপহরণের ঘটনার সম্পৃক্ততা নেই। একইসাথে অপর অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি আরও জানান, যেহেতু অপহরণের মূল ঘটনাটি পটুয়াখালী সদর থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নাসির উদ্দিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
