দেশের স্বাস্থ্য খাতের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হেলথ টেকনোলজি কোর্সগুলো পুনরায় চালু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এই কোর্সগুলো বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এবং নীতিগত জটিলতার কারণে হেলথ টেকনোলজি বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার আওতায় কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবিও তুলেছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টেকনোলজিস্টদের চাহিদা অপরিসীম। আধুনিক চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ফার্মেসি এবং ডেন্টাল টেকনোলজির মতো বিষয়গুলোতে দক্ষ কর্মীর কোনো বিকল্প নেই। অথচ কোর্সগুলো বন্ধ থাকায় এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী শূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ থাকা কোর্সগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক কি না এবং এর পেছনে অবকাঠামোগত কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। কেবল সার্টিফিকেট প্রদান করলেই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে উন্নত কারিকুলাম প্রণয়ন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের এই দাবি আদায়ে আন্দোলন ও আবেদন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সমন্বিত উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
