জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে ১২টি দেশের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। তথ্যপ্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রসারে এবং ডিজিটাল বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের এই জোরালো কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ যেভাবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কাজ করছে, তা এই ফোরামে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে কীভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠন করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে ১২টি দেশের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা এবং প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রত্যয় ফুটে ওঠে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ নজর দিচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। জাতিসংঘের এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশ কেবল নিজেদের অর্জনই তুলে ধরেনি, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি সমন্বিত কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে, এই ফোরামে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি জানান যে, প্রযুক্তি যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত না থাকে, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ আলোকপাত করেন, যা উপস্থিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও সমর্থন করেন। এই সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রযুক্তি কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
