ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থিত ‘জব কর্নার’ এখন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য এক চরম ভোগান্তির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করলেও, পর্যাপ্ত আসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গত বছর চালু হওয়া এই জব কর্নারটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল হওয়ার আগেই কর্নারের অধিকাংশ আসন দখল হয়ে যায়। যারা দেরিতে পৌঁছান, তারা সিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন অথবা গাদাগাদি করে বসে পড়ার চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জব কর্নারে পড়াশোনার পরিবেশ মোটেও সন্তোষজনক নয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং তীব্র গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা এবং সিলিং ফ্যানের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ সেখানে অবস্থান করা অনেকের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গ্রন্থাগারের সাধারণ পাঠকক্ষগুলোতে আসন খালি থাকলেও সেখানে চাকরির প্রস্তুতির বই নিয়ে পড়ার অনুমতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা জব কর্নারেই ভিড় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, জব কর্নারের বিপরীতে অবস্থিত অব্যবহৃত ডিজিটাল সেন্টারটিকে পড়াশোনার উপযোগী করে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, এটি দ্রুত কার্যকর করা হলে আসন সংকট অনেকটা লাঘব হতো। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিহান আলম ও ফাতিমা খাতুন জানান, তীব্র গরমে ফ্যান ও এসি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারা আবাসিক হলগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠকক্ষ তৈরির আদলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ জানান, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই জব কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আসন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে বিদ্যমান ফ্যানগুলো সচল রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে একটি নতুন জব কর্নার স্থাপনের বিষয়টি প্রশাসনের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
