বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদী তৎপরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে জাপান। টোকিও স্পষ্ট করেছে যে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং শান্তি বজায় রাখতে তারা বাংলাদেশের মতো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি জাপানের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করেছে।
জাপানি কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। আধুনিক বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তা, উগ্রবাদ দমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপান প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপানের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাপান মনে করে, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জাপান তার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার (JICA) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা খাতের আধুনিকায়নেও বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে পথচলা শুরু হয়েছে, তাকে সমর্থন জানিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
