সান ফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়টি মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে, যখন বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর অনিচ্ছাকৃতভাবে বালোগানের পা পড়ে যায়। শুরুতে রেফারি কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মনিটর দেখে তিনি বালোগানকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই কঠোর সিদ্ধান্তটি মাঠের ধারাভাষ্যকার, সমর্থক এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির সঙ্গে আলজেরিয়ার ম্যাচে ঘটে যাওয়া একটি সমজাতীয় ঘটনার প্রসঙ্গ। ওই ম্যাচে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ের ওপর মেসির বুট উঠে গেলেও রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক তাকে কোনো কার্ড দেখাননি। এই বৈপরীত্য নিয়ে বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, একই ধরণের অপরাধে কেন দুই খেলোয়াড়ের জন্য দুই রকম মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে? এটি ভিএআর প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। তার মতে, মাঠের খেলার চেয়ে রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো এখন আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ফুটবলের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও রেফারির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বালোগানের কোনো উদ্দেশ্যমূলক অপরাধ ছিল না এবং এটি কোনোভাবেই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল না। পচেত্তিনো মেসির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দুটি ঘটনাই ছিল খেলার স্বাভাবিক অংশ, যেখানে লাল কার্ডের মতো কঠোর শাস্তির কোনো প্রয়োজন ছিল না। এদিকে, ধারাভাষ্যকার ও সাবেক তারকা খেলোয়াড় ক্লিন্ট ডেম্পসি মনে করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রেফারির শতভাগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল, কারণ এই এক সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথের মতে, ভিডিও রিপ্লেতে ফ্রেজ করে দেখলে অপরাধটি অনেক বড় মনে হয়, কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে খেলাটি দেখলে এটি কেবলই একটি দুর্ভাগ্যজনক সংঘর্ষ। বালোগানের এই লাল কার্ডের ফলে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে পাবে না যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনাটি আবারও ফুটবল বিশ্বে রেফারির সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে জোরালো বিতর্কের অবতারণা করেছে। সমর্থকরা মনে করছেন, ফিফাকে দ্রুত এই বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
