**মূল ঘটনা:** সংগীতের সুর আর মেধার দ্যুতি ছড়ানো তরুণ মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধ এবার সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পথে। ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। মেধাতালিকায় দেশের প্রথম ৫০ জনের একজন হিসেবে তিনি সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সাফল্যের কথা জানান তিনি।
**পটভূমি ও বিবরণ:** ময়মনসিংহের চড়পাড়ার সন্তান মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধের সাফল্যের যাত্রাটি কেবল বিসিএস জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১০ সালে চ্যানেল আই ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান। তবে সংগীতের পাশাপাশি একাডেমিক ও সৃজনশীল মেধার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণিত অলিম্পিয়াডে অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছেন। ২০১২ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ৫৩তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ‘অনারেবল মেনশন’ অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। বুয়েটে ভর্তির আগেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ২৯টি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।
**কর্মজীবন ও অনুপ্রেরণা:** বিসিএস সাফল্যের পাশাপাশি মুগ্ধ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘শত দায়িত্বের চাপ ও সহস্র সংশয়ের মাঝেও সাফল্যের এই পথে এগিয়ে আসা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে যে আত্মতৃপ্তি তিনি পান, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার আনন্দও সেই অনুভূতির মানদণ্ডে অনন্য।’ তাঁর এই অর্জনে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় এবং তাঁর এক যমজ ভাইও রয়েছেন। তাঁর বাবা কলেজ শিক্ষক ইসকান্দর মির্জা এবং মা স্বাস্থ্য পরিদর্শক তাহমিনা বেগম সন্তানের এই সাফল্যে গর্বিত।
**ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি:** একজন সংগীতশিল্পী থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার এই রূপান্তর অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসন সাজানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মুগ্ধের মতো বহুমুখী প্রতিভার মানুষেরা প্রশাসনিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গান, গণিত এবং প্রশাসনিক দক্ষতা—এই তিনের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
