**মূল ঘটনা:** ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস (এসওবিই) সম্প্রতি ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা, অর্থনীতি, সমাজ এবং শিল্প খাতের মধ্যে একটি টেকসই ও কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেমিনার সিরিজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
**পটভূমি ও বিবরণ:** বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক ব্যয়ের মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সেমিনার সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ ইফতিখার মোস্তফা ‘কাঠামোগত সংস্কারের জন্য উদ্ভাবন, ভ্যালু চেইন এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার উদাহরণ টেনে টেকসই উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর জোর দেন।
**বিশেষজ্ঞদের মতামত:** ইউআইইউর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম ওমর ফারুক বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মূল্য সৃষ্টি ও বণ্টনের গভীর বোঝাপড়া প্রয়োজন। নেক্সাস সিরিজের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির মডেল একটি কাঠামোগত সীমার সম্মুখীন, তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে সরকার ও শিল্প খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা গবেষণাভিত্তিক নীতি সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
**পরবর্তী প্রভাব:** এই সেমিনার সিরিজের প্রতিটি আয়োজনে শিল্প খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা নেতৃত্ব দেবেন, যা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগটি ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে তা কমিয়ে আনবে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে সরাসরি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে, এমন উদ্যোগ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও উদ্ভাবনী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
