আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার ৪৭২ জন বেশি। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে, এবার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় পরিবর্তন। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রই রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এই কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৫টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে, যার মধ্যে ক্যালকুলেটরের ব্যবহার বিধি, কেন্দ্র পরিদর্শন এবং শৌচাগার তল্লাশির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা ধরা পড়লে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্রের এই উদ্যোগ মেধার সঠিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ঠেকানোই এখন কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা বিভাগ পুরো প্রক্রিয়ার ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি করছে যাতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
