ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল আজ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে জাপানের। কাগজে-কলমে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, জাপানের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং কৌশলী ফুটবল ম্যাচটিকে ঘিরে তৈরি করেছে বাড়তি উত্তেজনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক দারুণ সংঘাত।
ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে যে ভারসাম্যহীনতার পরিচয় দিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে নকআউটের জন্য প্রস্তুত। কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের কৌশলে এনেছেন আমূল পরিবর্তন। রাফিনিয়ার পরিবর্তে রায়ানের অন্তর্ভুক্তি উইং প্লে-তে ধার বাড়িয়েছে, আর মাতেউস কুনিয়ার প্রথাগত স্ট্রাইকার থেকে সরে এসে বিল্ডআপে অংশ নেওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের জন্য তৈরি করছে বাড়তি জায়গা। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারাইসের ছন্দময় পারফরম্যান্স ব্রাজিলের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, জাপান কোনোভাবেই ছেড়ে কথা বলবে না। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে অভ্যস্ত জাপানিজরা তাদের দ্রুতগতির ট্রানজিশন এবং সেট পিসের ওপর ভিত্তি করে গড়া কৌশলে ব্রাজিলকে চাপে ফেলার ছক কষছে। দাইজেন মায়েদা ও রিতসু দোয়ানের মতো উইঙ্গারদের গতি ব্রাজিলের রক্ষণের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। জাপানের লক্ষ্য হবে মিড-ব্লকে বল দখল করা এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রতি-আক্রমণ শানিয়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগানো।
ম্যাচটি যে একপেশে হবে না, তা অনুমিতই। ব্রাজিলের প্রধান শক্তি তাদের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, যা অনেক সময় দলীয় কৌশলের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। তবে জাপানের লড়াকু মানসিকতা এবং সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ব্রাজিলকে ৯ মিনিটই কঠিন পরীক্ষার মুখে রাখবে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি আবেগের বড় এক দোলাচল হতে পারে, কারণ দুই দলেরই রয়েছে বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী। শেষ পর্যন্ত যারা নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই শেষ হাসি হাসবে। পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ, তবে জাপানের অঘটন ঘটানোর সক্ষমতাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
