বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেশে। তাঁর মৃত্যুতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের রুচিবোধের কারিগর। বিশেষ করে তাঁর সৃষ্টি ‘বাঘা’ ও ‘মিনি’ চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তিনি যেভাবে দেশ ও দশের কথা তুলে ধরেছেন, তা চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ফরিদুর রেজা সাগর জানান, মুস্তাফা মনোয়ারের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের সখ্যতা। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও শিল্পীর মনে ছিল অদম্য প্রাণশক্তি। তিনি কেবল টেলিভিশনের জাদুকর ছিলেন না, বরং শিশুদের মনে দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতা জাগ্রত করার এক অনন্য কারিগর ছিলেন। টেলিভিশনের শুরুর দিকে তাঁর ‘কাটুম কুটুম’ কিংবা ‘ফেলনা জিনিস খেলনা নয়’ অনুষ্ঠানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিখিয়েছে সৃজনশীলতার শক্তি।
মুস্তাফা মনোয়ারের বহুমুখী প্রতিভার অন্যতম নিদর্শন হলো শহীদ মিনারের পেছনের সেই আইকনিক লাল বৃত্ত। শুটিংয়ের সময় শহীদ মিনারের পেছনে বিশৃঙ্খল দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লাল কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা পরবর্তীতে সূর্যের প্রতীক ও রক্তের স্মারক হিসেবে শহীদ মিনারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। এছাড়া ইউনিসেফের বিখ্যাত ‘মীনা’ কার্টুন তৈরির মূল কারিগরদের একজন ছিলেন তিনি। খেলার মাঠের মাসকট ডিজাইন থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দায় শেক্সপিয়রের নাটক মঞ্চস্থ করা—মুস্তাফা মনোয়ারের প্রতিটি কাজই ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর।
ফরিদুর রেজা সাগর আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার সবসময় বলতেন, ‘ছোটদের কখনো ছোট মনে করবে না, তারাই একদিন দেশ চালাবে।’ এই মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চ্যানেল আই তাদের একটি স্টুডিওর নামকরণ করেছে তাঁর নামে। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশাল গবেষণার ক্ষেত্র। মুস্তাফা মনোয়ার শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও, তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শের মাধ্যমে তিনি চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
