**মূল ঘটনা:** নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
**পটভূমি ও বিবরণ:** বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের যুবশক্তিকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা। এরই ধারাবাহিকতায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘টেকাব (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আইসিটি ট্রেনিং ভ্যানের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই। প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে নীলফামারী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসান আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই মাস মেয়াদী (জুলাই-আগস্ট ২০২৬) এই কোর্সে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন, যারা ভ্রাম্যমাণ আইসিটি ভ্যানের মাধ্যমে হাতে-কলমে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিংয়ের জটিল বিষয়গুলো শিখছেন।
**উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা:** এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। সাধারণ ক্লাসরুমের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সহজে এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই মাসের এই নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা কেবল কম্পিউটার চালনায় দক্ষ হবে না, বরং তারা নিজেরাই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারবে। এটি বেকারত্ব দূরীকরণ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
**প্রভাব ও বিশ্লেষণ:** তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিংয়ের জ্ঞান ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় অসম্ভব। কিশোরগঞ্জের মতো উপজেলা পর্যায়ে এমন ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই উদ্যোগটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাজসেবা কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
