ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় ভোরে রুশ বাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করলে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতদের তালিকায় শিশুরাও রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। এই ঘটনাকে ইউক্রেনের অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কিছু ভবনে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও, বিপুল সংখ্যক ড্রোন এবং মিসাইলের সমন্বিত হামলায় অনেকগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনভর তৎপরতা চালিয়েছেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শহরের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি না এলেও, তাদের এই কৌশলী আক্রমণ ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। শীতের মৌসুম শুরুর আগে ইউক্রেনকে চাপে ফেলার এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হয়ে বরং সংঘাতের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, বরং বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা অব্যাহত থাকলেও, রাশিয়ার ক্রমাগত এই ধরনের হামলার মুখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক এলাকায় এই ধরনের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
