বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে শহড়াবাড়ি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত স্পার বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালের দিকে এই ধসের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বানিয়াজান থেকে শহড়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসরত স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড বছরের অন্য সময়ে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র বর্ষাকালে বালির বস্তা ফেলে দায়সারা কাজ করে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও টেকসই কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে প্রতিবছরই ফসলি জমি এবং বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা এবং নিউসারিয়াকানদিসহ প্রায় ৮ থেকে ১০টি জনপদ যমুনার ভাঙনে চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৩ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান অংশে দুটি স্পার নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর বেশ কিছু বছর এলাকাটি ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও ২০২১ সালে বানিয়াজান স্পারের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার পর থেকে পুনরায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এদিকে, স্থানীয়দের একটি বড় অংশের অভিযোগ, যমুনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় স্পার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও টিউব ও জিও টেক্সট ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নদী তীরবর্তী কৃষকদের আবাদি জমি, বিশেষ করে পাট ও ধান ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে স্থানীয় প্রশাসন এবং পাউবো কর্তৃপক্ষ এখন টেকসই সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিলেও, আতঙ্কিত মানুষ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
