২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি মাগুরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের দেয়ালগুলোতে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নানা গৌরবোজ্জ্বল ও সংগ্রামী চিত্র। তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরের মলিন দেয়ালগুলো এখন নতুন রূপ ধারণ করেছে, যা পথচারী ও সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাগুরা শহরের প্রধান সড়কগুলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের দেওয়ালে শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি। গ্রাফিতির ক্যানভাসে উঠে এসেছে ছাত্র-জনতার ঐক্য, সাহসিকতা, স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগান এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নানা শৈল্পিক প্রকাশ। লাল-সবুজের পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে চিরজাগরুক রাখার চেষ্টা করেছেন তরুণ শিল্পীরা।
আন্দোলন চলাকালীন তরুণদের যে অবয়ব ও দৃঢ়তা দেখা গিয়েছিল, তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই দেয়ালচিত্রগুলোতে। তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তুলির টানে দেয়ালগুলোকে বর্ণিল করে তুলেছেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এই গ্রাফিতি শুধু কিছু চিত্রকর্ম নয়, এটি তাদের জুলাইয়ের বিপ্লবকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে টিকিয়ে রাখার একটি মাধ্যম। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই সৃজনশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।
শহরের সচেতন নাগরিক ও পথচারীরা শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের দেয়ালচিত্র তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শাণিত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মাগুরার এই দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এটি নতুন এক গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের দৃশ্যমান দলিল হয়ে উঠেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
