চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী মিনিবাসের ধাক্কায় জান্নাতুল মাওয়া (১০) নামের এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুল মছজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ওই উপজেলার ছোট কুমিরা কাজীপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে সে ছিল ছোট। স্কুল চলাকালীন টিফিনের বিরতির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে স্কুল ছুটির বিরতিতে জান্নাতুল এক সহপাঠীর বাসায় গিয়েছিল। সেখান থেকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরার পথে ঢাকা-মুখী লেনে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বেপরোয়া গতির একটি মিনিবাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোট্ট জান্নাতুলের মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দুপুরবেলা মেয়ের স্কুল থেকে ফেরার অপেক্ষায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন তার মা। কিন্তু গতকাল সেই অপেক্ষার ইতি ঘটেছে এক বুক কান্নায়। সন্তানের আকস্মিক এই প্রয়াণে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সহপাঠীরাও এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক মিনিবাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নিহত শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
