চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অপরাধপ্রবণ পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে অবস্থিত একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে ট্যাংকের বিষাক্ত পানি পান করে তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রোববার সকাল সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গ্লাসে ঢালা পানিতে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা ও দুর্গন্ধ থাকার পরও তা পান করায় এই শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। অসুস্থদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিবরণ নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম জানান, সকালে ডিউটিতে থাকা তিন পুলিশ সদস্য খাওয়ার পানি পানের সময় গ্লাসে ফেনাসদৃশ দ্রবণ লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সাধারণ মনে করে তাঁরা সামান্য পানি পান করতেই মুখে ও গলায় তীব্র ঝাঁজালো কেমিক্যাল বা বিষাক্ত গন্ধ অনুভব করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁদের শরীরে তীব্র অস্বস্তি ও বিষক্রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি ওপরমহলে জানানো হয় এবং ওই ক্যাম্পের পানি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলীনগর পুলিশ ক্যাম্পটির পানীয় জল সরবরাহ করা হতো পাশের একটি বসতবাড়ি থেকে টানা দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে। কোনো দুষ্কৃতকারী ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে পানির পাইপলাইনে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার পরপরই পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিষক্রিয়ার মাত্রা ও উপাদান শনাক্ত করার জন্য দ্রুত পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। একই সাথে ট্যাংকের সম্পূর্ণ পানি নিষ্কাশন করে তা জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর মূলত চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজিদারহাট লিংক রোডসংলগ্ন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত পাশের একটি বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ভূখণ্ড। ‘ছিন্নমূল’ ও ‘আলীনগর’ নামীয় দুটি অংশে বিভক্ত প্রায় ৩ হাজার ১০০ একরের বিশাল খাসজমিতে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূখণ্ডের অবৈধ দখলদার ও চরমপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। অতীতে সেখানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার উচ্ছেদ ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অভিযান চালালেও বারবার তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হতো।
পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করতে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় প্রশাসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলীনগরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেই ক্যাম্পেই বিষাক্ত পানি পানের ঘটনাটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত নাশকতার অংশ কি না, তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষাগারের ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পরই আইনগত পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
