সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্য শের আলীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।
এই বহিষ্কারের পেছনে মূলত ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগের ঘটনা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসানান আল আবিত (যিনি সাবায়েত নামেও পরিচিত) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে অভিযুক্ত শের আলী তাঁর ছোট ভাই, হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে অকারণে মারধর ও হেনস্তা করেছেন। এই অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এবং ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা শের আলী। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে মারধর ও হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সাথে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শের আলী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে, তবেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
ছাত্র রাজনীতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এমন কঠোর অবস্থান বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, র্যাগিং কিংবা ব্যক্তিগত হানাহানির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের যে তাগিদ রয়েছে, এই বহিষ্কারাদেশ তারই একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কিনা কিংবা প্রক্টরিয়াল বডি কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে এখন নজর রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
