Wednesday , July 22 2026
Breaking News
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা দশকের সাথে সংগতি রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়কে প্রাণহানি অন্তত ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং কৌশলগত আলোচনায় এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে হাজার হাজার মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে এবং অসংখ্য মানুষ স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করে, যা কেবল পারিবারিক বিপর্যয়ই সৃষ্টি করে না বরং দেশের অর্থনীতিতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ক্ষতি রোধে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়কগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করে সংস্কার, গতিসীমা মনিটরিং এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যতম।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের এই বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কেবল পরিকল্পনা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন এর যথাযথ প্রয়োগ। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং চালকদের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করা অপরিহার্য। এছাড়া, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত হকারমুক্ত করা এবং ওভারপাস ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিলকে দুর্ঘটনাকবলিতদের প্রাণ রক্ষায় দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। মহাসড়কগুলোর পাশে পর্যাপ্ত ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা জোরদার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে একটি সংস্কৃতিগত পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার এই আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এছাড়াও

জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি: গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাইল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি: গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাইল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশে মানবাধিকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *