বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশনের নেতৃত্ব এবং এর সামগ্রিক কার্যক্রম দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। বিশ্বজুড়ে অলিম্পিক গেমসে স্কোয়াশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খেলাটির গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডারেশনের সভাপতির (প্রেসিডেন্ট) দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত স্কোয়াশকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোর ভিড়ে বাংলাদেশে স্কোয়াশের মতো একটি ইনডোর স্পোর্টের সামগ্রিক বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নতুন নীতিমালা ও ফেডারেশনের সভাপতির নেতৃত্বে সম্প্রতি বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। খেলোয়াড়দের উন্নত ফিটনেস ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি কোচের অধীনে বিশেষ ক্যাম্প পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের নীতি-নির্ধারকেরা মনে করেন, কেবল দেশের ভেতরে খেলার আয়োজন করলেই চলবে না, খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক খতিয়ান ও র্যাংকিং বাড়াতে হলে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের স্কোয়াশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় বা জেলা শহরে আধুনিক স্কোয়াশ কোর্টের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফেডারেশন এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারিত্বে নতুন কোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সভাপতির নেতৃত্বে ফেডারেশন করপোরেট স্পন্সরশিপ আকর্ষণে জোর দিচ্ছে, যাতে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের খরচ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড নিশ্চিত করা যায়। দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্কোয়াশের মতো সম্ভাবনাময় খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসে, তবে খেলোয়াড়দের পেশাদার ক্যারিয়ার গঠন সহজ হবে।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও ধাপে ধাপে উন্নত হচ্ছে। এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ বা সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের মতো আসরগুলোতে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে স্কোয়াশ খেলাটি যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সামনে এখন এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা, যাতে তারা অলিম্পিকের মতো মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্কোয়াশ আগামী দিনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদেরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
