Tuesday , July 21 2026
Breaking News
দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম: জেনে নিন ভরি প্রতি নতুন দর ও বিস্তারিত তথ্য

দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম: জেনে নিন ভরি প্রতি নতুন দর ও বিস্তারিত তথ্য

দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাজুস নির্ধারিত নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ দর।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার পাশাপাশি সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরিতে বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন স্তরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও পুনর্নির্ধারণ করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দামের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁচামালের সংকটের কারণে এই দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটি।

জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে পাকা সোনার সরবরাহ ও দামের ওপর ভিত্তি করে দেশে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়ে থাকে। গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ক্রমাগত ওঠানামা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও, যার ফলে দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোনার এই দফায় দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামনে বিয়ের মরশুম বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। অনেক ক্রেতাই এখন নতুন অলংকার কেনার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছেন অথবা বাজেটের সঙ্গে সংগতি রাখতে গিয়ে কম ওজনের সোনা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আকস্মিক এই দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরা দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক মন্দা তৈরি করতে পারে।

তবে সোনার দাম বাড়ানো হলেও রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাটাগরি ভেদে ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম আগের নির্ধারিত দরেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে রূপার গহনা কিনতে ক্রেতাদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ গুণতে হবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শেয়ার বাজার বা অন্যান্য আর্থিক খাতে অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটিই বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের বাজারেও এই বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক ট্রেন্ডের সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে।

এছাড়াও

ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধি: ‘বাংলা কিউআর’ রিলস প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধি: ‘বাংলা কিউআর’ রিলস প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যকে আরও বেগবান করতে বিশেষ উদ্যোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *