যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বার্নহ্যাম। বর্তমানে দলটির ৪০৩ জন পার্লামেন্ট সদস্যের (এমপি) মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন তিনি। লেবার পার্টির দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হয়। বার্নহ্যামের বর্তমান সমর্থন সংখ্যা এই সীমাকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গাণিতিক সমীকরণ অনুযায়ী, আর মাত্র একজনের সমর্থন পেলেই তিনি ৩২৩ জনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলবেন, যা তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। নিয়ম অনুযায়ী, একবার এই সংখ্যা অর্জিত হলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের এই উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ঘটনা। কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর সৃষ্ট শূন্যতায় বার্নহ্যামের এই দ্রুত উত্থান লেবার পার্টির ভেতরে বড় ধরনের ঐকমত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে তিনি লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজের এই বিশাল সমর্থন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বার্নহ্যাম দলের এমপিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই সমর্থন কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং প্রতিটি অঞ্চলের সমতাভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি গড়ে তোলাই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ ক্ল্যাকটন আসনে উপনির্বাচনের ডাক দিয়েছেন, যেখানে কৌতুকাভিনেতা ‘কাউন্ট বিনফেইস’-এর অংশগ্রহণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বার্নহ্যাম এসব রাজনৈতিক কৌশলকে পাশ কাটিয়ে দলের ঐক্যের ওপর নজর দিচ্ছেন। যদিও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকারের প্রশ্নে কিছু মহলে সংশয় রয়েছে, তবে সব মিলিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ এখন অনেকটাই সুগম। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পরবর্তী এই ক্রান্তিলগ্নে বার্নহ্যামের নেতৃত্ব ব্রিটিশ রাজনীতির গতিপথ কতটা পরিবর্তন করতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
