আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার এবং দেশটির দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ সম্প্রতি ১০১ বছরে পদার্পণ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দুই মেয়াদে প্রায় ২৪ বছর মালয়েশিয়ার শাসনভার সামলেছেন এবং দেশটিকে বিশ্বমঞ্চে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। তবে জীবনের এই নতুন মাইলফলকে দাঁড়িয়েও তিনি তৃপ্ত নন। সংবাদমাধ্যম ‘মালয়েশিয়া নাউ’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহাথির নিজের আক্ষেপের কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, দেশের জন্য তিনি যা অর্জন করতে চেয়েছিলেন, তার অনেক কিছুই অধরা রয়ে গেছে।
মাহাথির মোহাম্মদের মতে, মালয়েশিয়ার একটি উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার অসীম সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সময়, মেধা ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা দেশের প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক দর্শনে মালয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা সবসময়ই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি জানান, নিজের জন্য ভাবার সময় শেষ হয়েছে, এখন তার প্রতিটি চিন্তার কেন্দ্রে শুধুই দেশ ও দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়দের অধিকার আদায়ে লড়াই করে আসা এই প্রবীণ নেতা মনে করেন, মালয়দের মধ্যে অনৈক্যই বর্তমান মালয়েশিয়ার বড় সংকট।
উল্লেখ্য, মাহাথির মোহাম্মদ শুধু মালয়েশিয়ার উন্নয়নের কারিগরই নন, বরং দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি একজন প্রভাবশালী এবং অনেক সময় বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। গত বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে তার অংশগ্রহণ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতিকে কেন্দ্র করে তিনি বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে মালয় ভোটারদের শুধুমাত্র মালয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহাথিরের এই কঠোর অবস্থান এবং বারবার ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করার প্রবণতা বর্তমান সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাহাথির মনে করেন, তিনি যা বলছেন তা দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই বলছেন। শতবর্ষী এই নেতা এখনো তার স্বভাবসুলভ তীক্ষ্ণতা এবং স্পষ্টবাদী মানসিকতা ধরে রেখেছেন। মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দূরদৃষ্টির প্রতিফলন আজও তার প্রতিটি কথায় স্পষ্ট। দিনশেষে তিনি মালয়েশিয়াকে একটি অখণ্ড, সমৃদ্ধ এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে দেখতে চান, যেখানে মালয়দের পাশাপাশি সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং দেশের প্রকৃত সম্ভাবনা বিকশিত হবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
