জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে গড়ে তোলা ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুব শীঘ্রই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শুক্রবার কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী জানান, জাদুঘরটি পরিচালনার জন্য একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এর যাবতীয় প্রস্তুতির কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর গণভবনকে রূপান্তর করে এই জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিগত শাসনামলের দুঃশাসন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের নানা স্মারক এখানে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে এতদিন একটি সুসংগঠিত পরিচালনা কমিটির অভাব ও অস্পষ্টতার কারণে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আগের কমিটিটি অকার্যকর ও অগোছালো থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদের সিদ্ধান্তের আলোকে বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্বোধনের তারিখ ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন এই কমিটি জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস ও শহীদদের বীরত্বগাথা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। জাদুঘরটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
কুমিল্লা সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, কুমিল্লার প্রাচীন সভ্যতা ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শালবন বিহারসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। সফরের দ্বিতীয় ভাগে মন্ত্রী শচীন দেববর্মনের পৈতৃক বাড়ি, অভয় আশ্রম, রামমালা গ্রন্থাগারসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের শাসনকালের সমালোচনা করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ১৮-২০ বছরে দেশের প্রতিটি খাত—শিক্ষা, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যাংক ও প্রশাসন পর্যন্ত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। ব্যাপক অর্থ পাচার ও লুটপাটের ফলে অর্থনীতি আজ সংকটের মুখে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
