দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রশাসন এবং নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে দুর্গত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যেন ত্রাণ সহায়তা দ্রুত পৌঁছায়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উদ্ধার তৎপরতা আরও ত্বরান্বিত করার জন্য সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো এলাকা যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দুর্গতদের তালিকা প্রস্তুত করেন এবং স্বচ্ছতার সাথে ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করেন। এছাড়া, গবাদি পশুর সুরক্ষা এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষি জমির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। তিনি দেশের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে, যা বন্যা পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
