অ্যানিমেশনপ্রেমীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে ডিজনির জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘মোয়ানা’। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বক্স অফিসে প্রায় ৬৮২ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি ডিজনির অন্যতম সফল অ্যানিমেশন হিসেবে জায়গা করে নেয়। এর অসাধারণ গল্প, মন মুগ্ধ করা গান এবং পলিনেশীয় সংস্কৃতির মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা অগণিত ভক্ত তৈরি করেছে। এই বিপুল সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, ডিজনি এখন ‘মোয়ানা’কে নতুন রূপে, লাইভ-অ্যাকশন ফরম্যাটে দর্শকদের সামনে আনতে প্রস্তুত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত এই লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণটি পরিচালনা করছেন টমাস কাইল, যিনি ব্রডওয়ের সফল মঞ্চনাটকের জন্য পরিচিত। এই নতুন চলচ্চিত্রে অ্যানিমেশনের কিছু উপাদান থাকলেও, মূল আকর্ষণ থাকবে বাস্তব অভিনেতাদের মাধ্যমে গল্পের প্রাণবন্ত উপস্থাপন। এই মেগা প্রজেক্টের পেছনে ডিজনির উদ্দেশ্য হলো তাদের ক্লাসিক গল্পগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা। এই চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের ১০ই জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই দারুণ উত্তেজনা তৈরি করেছে।
লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রধান চরিত্রগুলোর নির্বাচন। অ্যানিমেটেড সংস্করণে অর্ধদেবতা মাউই চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন এবার সরাসরি পর্দায় এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলবেন। জনসনের কাছে মাউই নিছকই একটি চরিত্র নয়, বরং তার পলিনেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাউই চরিত্রে সরাসরি অভিনয় করা তার ক্যারিয়ারের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জনসন আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, যখন রক্ত-মাংসের মানুষের মাধ্যমে পলিনেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন তার অনুভূতিই বদলে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে একজন বাবা হিসেবে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং জীবনে আসা নানা উত্থান-পতন এই চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে ও ফুটিয়ে তুলতে তাকে সাহায্য করেছে। মাউই চরিত্রের মধ্যে তিনি তার নিজের দাদার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান এবং হাওয়াইতে কাটানো তার শৈশবের স্মৃতি এই গল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
অন্যদিকে, মোয়ানা চরিত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩২ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কঠোর অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নবাগত ক্যাথরিন লাগাইয়াকে নির্বাচন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া সামোয়ান বংশোদ্ভূত এই তরুণী অভিনেত্রী মোয়ানা চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। পরিচালক টমাস কাইল লাগাইয়ার প্রথম অডিশনেই মুগ্ধ হয়েছিলেন, যখন তিনি ‘হাউ ফার আই’ল গো’ গানটি গেয়ে চরিত্রটির বিশ্ব ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ক্যাথরিন লাগাইয়া জানান, মোয়ানা তার শৈশবের একজন আদর্শ ছিলেন এবং এই চরিত্রের সাহস, কৌতূহল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ফলস্বরূপ, তিনি স্বাভাবিকভাবেই চরিত্রটির সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছেন।
সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সাহসী কিশোরী মোয়ানা, যে তার দ্বীপ এবং তার জনগণকে এক আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য এক বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হয়। এই অভিযানে তার সঙ্গী হয় শক্তিশালী কিন্তু অহংকারী অর্ধদেবতা মাউই। নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তারা প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। মূল অ্যানিমেটেড গল্পের আবেগ, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার মতো গভীর বিষয়গুলো লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। এই লাইভ-অ্যাকশন রূপান্তরটি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং পলিনেশীয় ঐতিহ্য ও গল্পের প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য এক নতুন এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটিও ডিজনির আরেকটি দুর্দান্ত সাফল্য হতে চলেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
