মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতিটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করার পরিবর্তে উভয় পক্ষকেই পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদ জাভেদ হাসান আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন কখনোই এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না। অন্যদিকে, তেহরান এই সময়টিকে ব্যবহার করেছে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে। ওপেন সোর্স তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তেল রপ্তানি করে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক তৎপরতাকে সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ব্যাপারে অত্যন্ত অনড় অবস্থানে রয়েছে। তুরস্ক সফর শেষে হোয়াইট হাউসে ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন অতীত। যদিও প্রশাসনের ভেতরেই ভিন্ন মত রয়েছে—কেউ কেউ সংঘাত প্রশমনে পুনরায় আলোচনার পক্ষে কথা বলছেন। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের একটি অংশ এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মার্কিন জনগণের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, গত ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। হামলায় গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বুশেহরের পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে ইরানও বসে নেই; তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ কুয়েত ও কাতারের সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
