অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন স্থিতিশীলতা ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ চলছে, ঠিক সেই সময়ে শরীয়তপুরের রাজপথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের তৎপরতা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়কে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি মাস্ক ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মূলত সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে এই ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান লেখা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই মিছিলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে হেলমেট ও মাস্ক ব্যবহার করেছেন। মিছিল থেকে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়া, মিছিলকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অন্তত ১২টি ঝটিকা মিছিল হয়েছে।
এ বিষয়ে আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগের এক নেতা দাবি করেন, বর্তমান সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করা হচ্ছে এবং অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মুখে গ্রেপ্তার এড়াতে তারা কৌশলে এমন ঝটিকা মিছিল করছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রমের বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আইন অমান্য করে কেউ যদি নাশকতামূলক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগেও যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও প্রশাসন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
