ইউরোপের অন্যতম বিলাসবহুল শহর মোনাকোতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর বোমা হামলার ঘটনার তদন্তে নেমে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী পুরুষ সেজে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন, যা গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করেছে। ঘটনাটি ঘটার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে হামলাকারী ওই এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মোনাকোর নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন ওই ইউক্রেনীয় নাগরিকের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী একা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি; বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র বা শক্তিশালী সহযোগীদের হাত থাকতে পারে। হামলাকারী নিখুঁতভাবে তার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, যা নির্দেশ করে যে তিনি অত্যন্ত পেশাদার এবং আগে থেকেই হামলার স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলাকারী পুরুষালি পোশাক এবং কৃত্রিম অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। এই ছদ্মবেশের কারণেই তাকে শনাক্ত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে বেগ পেতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে।
মোনাকোর মতো উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত শহরে এমন হামলার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথেও তথ্য আদান-প্রদান করছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইউক্রেনীয় নাগরিক হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীর জাতীয়তা যাই হোক না কেন, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, হামলাকারী কয়েক দিন ধরে নিয়মিত ওই এলাকায় যাতায়াত করছিলেন এবং হামলার জন্য উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। মোনাকোর রাস্তাঘাট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বর্তমানে পুলিশ ওই অঞ্চলের প্রতিটি সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের গতিবিধি ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতেও ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি মোনাকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে এখন শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
