বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ৬৬ কেজি সিসা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই বিশাল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সেগুনবাগিচায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন যমজ ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি এবং তাদের সহযোগী মো. মাকসুদ আলম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা ও মালিবাগ এলাকা থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো সিসার চালান জব্দ করার পর মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুঁকা জব্দ করা হয়। অভিযানে সিসা সেবনের ৪০ কেজি কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেপ্তারকৃত যমজ ভাইদের মা-বাবা ইরানের নাগরিক। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তারা নিয়মিত ইরানে যাতায়াত করতেন এবং সেখান থেকেই সিসা ব্যবসার কৌশল ও সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন। বাংলাদেশে ফিরে তারা ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই অবৈধ ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্যের ছবি প্রদর্শন, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত মুঠোফোন ও ফেসবুক পেজ থেকে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ও সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই পুরো নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একক কোনো অভিযানে জব্দ হওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ সিসা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক মাদক চোরাচালানের একটি বড় চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে মাদকের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
