Friday , July 3 2026
Breaking News
স্পাইওয়্যার তদন্তকারী ইউরোপীয় রাজনীতিকের ফোনে পেগাসাস হ্যাকিং: প্রযুক্তি ও নজরদারির নতুন উদ্বেগ

স্পাইওয়্যার তদন্তকারী ইউরোপীয় রাজনীতিকের ফোনে পেগাসাস হ্যাকিং: প্রযুক্তি ও নজরদারির নতুন উদ্বেগ

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে যে রাজনীতিক স্পাইওয়্যার শিল্পের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করছিলেন, তার ব্যক্তিগত স্মার্টফোনটিই হ্যাক করা হয়েছে। এই হ্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিতর্কিত এনএসও গ্রুপের তৈরি কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার। ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় নজরদারি প্রযুক্তি এখন কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এর অপব্যবহারের পরিধি কত ব্যাপক।

তদন্তকারী ওই রাজনীতিক যখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে স্পাইওয়্যার শিল্পের অনিয়ম খুঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করছিলেন, ঠিক তখনই তার ফোনটি নজরদারির লক্ষ্যবস্তু হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এনএসও গ্রুপ দাবি করে থাকে যে, তাদের এই প্রযুক্তি কেবল সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ দমনে ব্যবহৃত হয়। তবে বারবার দেখা গেছে যে, বিভিন্ন দেশের সরকার বা সরকারি সংস্থাগুলো এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিরোধী মতের রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর আড়ি পেতে থাকে।

পেগাসাস স্পাইওয়্যারের কার্যকারিতা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি একবার ফোনে প্রবেশ করতে পারলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, টেক্সট মেসেজ, ইমেইল এবং লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে। এই প্রযুক্তিটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না তার ফোনটি আক্রান্ত হয়েছে। ইউরোপীয় রাজনীতিকের ফোনে হ্যাকিংয়ের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যারা নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারাও এখন এই নজরদারি ব্যবস্থার টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।

এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নীতি এবং নজরদারি প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের ওপর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কঠোর আইন থাকলেও, রাষ্ট্র বা সরকারি সংস্থার আড়ালে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘটনা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘকাল ধরে এনএসও গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পাইওয়্যারের এই অপব্যবহার কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদের উচিত সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মানবাধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। প্রযুক্তি যখন নজরদারির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

এছাড়াও

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে দুই হাজারের বেশি মৃত্যু: সতর্কতায় আবহাওয়াবিদরা

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে দুই হাজারের বেশি মৃত্যু: সতর্কতায় আবহাওয়াবিদরা

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহের চরম পর্যায়ে অন্তত ২,০২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তথ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *