ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে গত কয়েক দশকের ভয়াবহতম ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২৫ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতে শুরু হওয়া এই সিরিজ আক্রমণে কিয়েভের আকাশপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়া অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। ড্রোন এবং বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে চালানো এই অভিযানে কিয়েভের আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিকটস্থ পাতাল রেল বা সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ভূগর্ভস্থ এই স্টেশনগুলো যেন এক একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা একে ‘ভয়ংকর এক রাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ বাহিনীর ছোড়া বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও, অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সফল হয়েছে। হামলায় বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন, তবে ক্রমাগত হামলার হুমকির কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার প্রক্রিয়া।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই সাম্প্রতিক হামলা সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধরণের নির্বিচার হামলা কোনোভাবেই যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলে না।
এদিকে, কিয়েভের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইউক্রেনকে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, মস্কো বরাবরই ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে আসছে, যদিও বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। যুদ্ধের এই দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়ে রাশিয়ার এই নতুন আগ্রাসন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সমাপ্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
