যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সংরক্ষিত এলাকা লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট ও ভাঙচুরের অভিযোগে ফেঁসে গেছেন দেশটির সাবেক অলিম্পিক ক্যানো ক্রাফট তারকা ডেভিড ‘ডেভি’ হার্ন। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ও সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেটের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ ওঠায় মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত লিঙ্কন মেমোরিয়ালের পাশে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ডেভিড হার্নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং পুলিশের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাবেক এই অলিম্পিয়ান ওই জলাধারের সীমানায় প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনার ক্ষতিসাধন করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির কাছাকাছি সময়ে এই ঘটনাটি ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগে বলা হয়েছে, হার্নের এই আচরণ সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ছিল এবং এর ফলে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ এই স্মৃতিস্তম্ভটির নান্দনিক ও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
৬৪ বছর বয়সী ডেভিড হার্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানিত একজন ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে স্লালম ক্যানোয়িং (Slalom Canoeing) ইভেন্টে তিনি বৈশ্বিক মঞ্চে দীর্ঘদিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিক, ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিক এবং ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে তিনি মার্কিন দলের হয়ে অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও তার একাধিক স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জয়ের গৌরবময় রেকর্ড রয়েছে। এমন একজন প্রথিতযশা ক্রীড়াবিদ কেন এবং কী পরিস্থিতিতে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন, তা নিয়ে তদন্তকারীরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, ফেডারেল বা জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ঐতিহাসিক স্থানে ভাঙচুর চালানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ডেভিড হার্নকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক স্থাপনার মর্যাদা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই মামলার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এবং আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর মার্কিন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক কমিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্যানো অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। একজন অলিম্পিয়ানের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। মামলাটি বর্তমানে মার্কিন ফেডারেল আদালতের বিচারাধীন রয়েছে এবং পুরো ক্রীড়াবিশ্ব এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
