বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি সুপরিচিত ও স্বনামধন্য নাম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করে আসছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে যে ব্যক্তিত্বের অসামান্য অবদান রয়েছে, তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলী। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম এবং শিক্ষাবিষয়ক গভীর জ্ঞান বিইউবিটি-কে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলী একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিচক্ষণ প্রশাসক। শিক্ষাজীবনে তিনি যেমন মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি কর্মজীবনেও তিনি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ দিয়ে বহু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। বিইউবিটি যখন তার যাত্রা শুরু করে, তখন বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ড. মাহবুব আলী তাঁর প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পথে পরিচালিত করেন। তিনি কেবল একজন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি, বরং একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বিইউবিটি-কে দেশের অন্যতম সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছেন এবং তা বাস্তবায়নে নিরন্তর কাজ করে গেছেন।
তাঁর নেতৃত্বে বিইউবিটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ব্যাপক জোর দিয়েছে। আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণাগার ও গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিতভাবে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন – এসবই তাঁর প্রশাসনিক দূরদর্শিতার ফল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান দিলেই হবে না, বরং তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা এবং ব্যবহারিক দক্ষতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এই দর্শন থেকেই বিইউবিটি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ এবং পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলীর সুদক্ষ ব্যবস্থাপনায় বিইউবিটি অবকাঠামোগত দিক থেকেও প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। সুবিশাল ক্যাম্পাস, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনেও তিনি উৎসাহিত করেছেন। ফলস্বরূপ, বিইউবিটি থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা কেবল দেশের শ্রমবাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং সামগ্রিক পরিবেশের উপর। ড. মাহবুব আলী এই প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। তাঁর সহজলভ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। তাঁর হাত ধরেই বিইউবিটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যতে বিইউবিটি-কে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলী বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন নতুন বিভাগ ও প্রোগ্রাম চালু করা, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। তাঁর নেতৃত্বে বিইউবিটি আগামী দিনেও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলায় অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
