দেশের শিক্ষা খাতের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ বিভাগের জারি করা এক সাম্প্রতিক পরিপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্মানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বেশ কিছু ব্যয় খাত যুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই নতুন নির্দেশনার ফলে পরীক্ষা পরিচালনা সংশ্লিষ্টদের আর্থিক প্রণোদনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের সম্মানি আগের মতোই ৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের সম্মানি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত হার অনুযায়ী, নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীরা এখন থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। একইভাবে, দশম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১ হাজার টাকা দৈনিক সম্মানি পাবেন।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও খাতা পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতি খাতার বিপরীতে ৫০ টাকা সম্মানি বহাল রাখা হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিং এবং প্রচলিত কোডিংয়ের জন্য নতুন ইউনিট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপত্র প্রস্তুতের খরচ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে, যা কাগজের গুণমান ও মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য বিবিধ ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ ও কলমসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া আপ্যায়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যেখানে নাস্তার জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের কর্মস্পৃহা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই মূলত এই নতুন আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
