বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ‘ভিসা নীতি-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে এই নতুন নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিকায়ন করাই এই নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই নীতিমালাটিকে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। মূলত ২০০৬ সালের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালাকে সংশোধন ও পরিমার্জন করেই এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের বিকাশেও এই নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের পথ প্রশস্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়। এই নতুন ভিসা নীতিমালা কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
